![]() |
| প্রতীকী ছবি |
মহামনি চাকমা - ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সমাজ
বিপর্যয়ের যে কর্মকাণ্ড সমাজে পরিলক্ষিত
হয় তার মধ্যে মানব পাচার অন্যতম । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
মানব পাচারের সমীকরণভয়াবহ
রুপ ধারণ করেছে । ৪ঠা মে
২০২৩ সালে দৈনিক ইত্তেফার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ বছরে
প্রায় ১০ লাখ পুরুষ
ও নারী পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। অঞ্চল অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই হার একটু
বেশি । শুধু মাত্র
খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার ২ টি ইউনিয়ন
থেকে ৩৬ জন এবং পুরো উপজেলা থেকে প্রায় ২০০ জন নারী নারী
হংকং ও চীনে পাচার
হয়েছে ।বিয়ের উন্নত জীবন ,মোটা বেতনের চাকরি,টাকা,আই ফোন ইত্যাদি
প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্র নারীদের পাচার করছে । একজন নারী
৮ লক্ষ টাকার চেয়ে কম নয় , কম
বয়সী হলে এই দাম ১৫-২০ লক্ষ টাকা
পর্যন্ত হতে পারে । সাধারণত দাম
নির্ধারণ হয় নারীর সেীন্দর্যের
উপর ।বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে জানা যায়-রাঙ্গামাটি সদর,বরকল,লংগদু, কাউকালী এবং খাগড়াছড়ি দীঘিনালা থেকে সবচেয়ে বেশি নারী পাচার হচ্ছে । পাচারের শিকার
হচ্ছেন অধিকাংশ নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েই ।
১।মানব কন্ঠ, প্রকাশ-৩ জুলাই ২০২৪
২।The
Business Study প্রকাশ-২৭ এপ্রিল২০২৪
এত এত নারী
বিদেশে পাচার হচ্ছে তাহলে বাংলাদেশে কি এর বিরুদ্ধে
কোনো আইন নেই ?
মানব
পাচার প্রতিরোধ করার লক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ বিধান করা হয় । এই
আইনে দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়- ”কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর একাধিক সদস্য গোষ্ঠীর সকল সদস্যের সাধারণ অভিপ্রায় সাধনের উদ্দেশ্যে কোন আর্থিক বা অন্য কোনো
বস্তুগত বা অবস্তুগত মুনাফা
অর্জনের নিমিত্ত এই আইনের অধীন
কোন অপরাধ সংঘটন করিলে উক্ত গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য উক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হইবে এবং অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে
বা ন্যূনতম ৭(সাত) বৎসর
সশ্রম কারাদণ্ডে এবং ন্যূনতম ৫(পাঁচ) লক্ষ
টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বলা
বাহুল্য মানব পাচার আইন-২০১২ বলবৎ থাকলেও তা প্রকৃত পক্ষে
কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না ।অত্যান্ত দুঃখজনক
হলেও সত্য যে, “পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, চীনে নারী পাচার হওয়া বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রাঙ্গামাটি
পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন-“ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ আসে না । তবে
বিষয়গুলো তারা জানেন ।”
মানব
পাচার কেন হচ্ছে ? এই উত্তর খোঁজা
খুব সহজ । মানব পাচার
হওয়া যতগুলো কারণ আছে অন্যতম হলো দরিদ্রতা । বিভিন্ন প্রতিবেদন
বলছে, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের নারীকে পাচারের জন্য টার্গেট করা হয় ।
এছাড়াও
রয়েছে আইনী দুর্বলতা, পরিবারের অসচেতনতা , উচ্চ বিলাসী জীবন ধারণের আঙ্খাকা ইত্যাদি । উচ্চ বিলাসী
জীবন ধারণের আশার যে নারী বিদেশে
পাড়ি জমাচ্ছে আসলে কি তিনি সেটা
পাচ্ছেন ?
সামাজিক
যোগাযোগে পাচার হওয়া নারীর প্রকাশিত ভিডিও, তথ্যসূত্র থেকে অনুমান করা যায়, দু/এক জন
সাধারণভাবে জীবন ধারণ করতে পারলেও বেশিভাগ নারীকে যৌন নিযার্তন,দাসী এমনকি যৌনকর্মী হতে বাধ্য করা হয়।
কোনো একটি দেশ বা আইন মানব পাচার রোধ করতে পারবে না । প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সাহায্য সহযোগিতা এবং আইনী কঠোর প্রয়োগ ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন